ঢাকা , শনিবার, ০৬ জুন ২০২৬ , ২২ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

বিশ্ব পরিবেশ দিবস আজ: জলবায়ু সংকট মোকাবিলায় সম্মিলিত উদ্যোগের আহ্বান

নিজস্ব প্রতিবেদক
আপডেট সময় : ২০২৬-০৬-০৫ ১৭:৩৬:৪২
বিশ্ব পরিবেশ দিবস আজ: জলবায়ু সংকট মোকাবিলায় সম্মিলিত উদ্যোগের আহ্বান বিশ্ব পরিবেশ দিবস আজ: জলবায়ু সংকট মোকাবিলায় সম্মিলিত উদ্যোগের আহ্বান
নিজস্ব প্রতিবেদক: রাজিবুল হোসেন তানিম ও আজ ৫ জুন, বিশ্ব পরিবেশ দিবস। পরিবেশ সংরক্ষণ ও জলবায়ু পরিবর্তনের ক্ষতিকর প্রভাব মোকাবিলায় সচেতনতা বৃদ্ধির লক্ষ্যে বিশ্বের অন্যান্য দেশের মতো বাংলাদেশেও দিনটি নানা কর্মসূচির মধ্য দিয়ে পালিত হচ্ছে। এবারের বিশ্ব পরিবেশ দিবসের আয়োজক দেশ কাস্পিয়ান সাগরের তীরবর্তী আজারবাইজান। দিবসটির মূল আন্তর্জাতিক অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হচ্ছে দেশটির রাজধানী বাকুতে। চলতি বছরের প্রতিপাদ্য নির্ধারণ করা হয়েছে— “প্রকৃতির অনুপ্রেরণায়, জলবায়ুর সুরক্ষায়, গড়ব ভবিষ্যৎ”। জলবায়ু পরিবর্তনের ক্রমবর্ধমান হুমকি ও বৈশ্বিক উষ্ণতা বৃদ্ধির প্রেক্ষাপটে এই প্রতিপাদ্য বিশ্বনেতা ও সাধারণ মানুষের প্রতি একটি গুরুত্বপূর্ণ বার্তা বহন করছে। বিশ্ব পরিবেশ দিবসের সূচনা হয়েছিল পরিবেশ রক্ষার একটি বৈশ্বিক উদ্যোগের ধারাবাহিকতায়। ১৯৬৮ সালে সুইডেন সরকার জাতিসংঘের অর্থনৈতিক ও সামাজিক পরিষদের (ECOSOC) কাছে পরিবেশ দূষণ ও প্রাকৃতিক ভারসাম্যহীনতা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে। এরই ধারাবাহিকতায় ১৯৭২ সালের ৫ থেকে ১৬ জুন সুইডেনের রাজধানী স্টকহোমে অনুষ্ঠিত হয় জাতিসংঘ মানব পরিবেশ সম্মেলন, যা ছিল বিশ্বের প্রথম আন্তর্জাতিক পরিবেশ সম্মেলন। পরবর্তীতে সম্মেলনের উদ্বোধনী দিন ৫ জুনকে স্মরণীয় করে রাখতে ১৯৭৪ সালে জাতিসংঘ দিনটিকে “বিশ্ব পরিবেশ দিবস” হিসেবে ঘোষণা করে। এরপর থেকে প্রতিবছর ভিন্ন ভিন্ন প্রতিপাদ্যে দিবসটি পালিত হয়ে আসছে। পরিবেশ বিশেষজ্ঞদের মতে, ভৌগোলিক অবস্থান, সমুদ্রপৃষ্ঠের কাছাকাছি ভূমির উচ্চতা এবং অত্যধিক জনঘনত্বের কারণে বাংলাদেশ বিশ্বের অন্যতম জলবায়ু-ঝুঁকিপূর্ণ দেশ। অথচ বৈশ্বিক গ্রিনহাউস গ্যাস নিঃসরণে দেশের অবদান অত্যন্ত সামান্য। তারপরও জলবায়ু পরিবর্তনের বিরূপ প্রভাব দেশের মানুষ, কৃষি, অর্থনীতি ও জীববৈচিত্র্যের ওপর গভীরভাবে আঘাত হানছে। গত দুই দশকে বাংলাদেশে ঘূর্ণিঝড়, বন্যা, জলোচ্ছ্বাস এবং তীব্র তাপপ্রবাহের মতো প্রাকৃতিক দুর্যোগের মাত্রা ও ঘনত্ব উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে এসব দুর্যোগ আরও ঘন ঘন ও তীব্র হয়ে উঠছে। উপকূলীয় অঞ্চলে লবণাক্ততা বৃদ্ধির ফলে সুপেয় পানির সংকট দেখা দিয়েছে, একই সঙ্গে কৃষিজমির উর্বরতা কমে যাচ্ছে। ফলে জীবিকা হারিয়ে প্রতিবছর বহু মানুষ গ্রাম ছেড়ে শহরমুখী হতে বাধ্য হচ্ছেন, যাদের অনেকেই ‘জলবায়ু শরণার্থী’ হিসেবে পরিচিত। বিশ্ব পরিবেশ দিবস উপলক্ষে আজ সকাল থেকেই দেশের বিভিন্ন স্থানে র‌্যালি, পরিবেশ মেলা, সেমিনার, আলোচনা সভা এবং বৃক্ষরোপণ কর্মসূচির আয়োজন করা হয়েছে। পরিবেশ রক্ষা ও জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব মোকাবিলায় জনগণকে আরও সচেতন হওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা। বিশেষজ্ঞরা মনে করেন, পরিবেশ ও জলবায়ু সংকট মোকাবিলায় সরকার, বেসরকারি প্রতিষ্ঠান, পরিবেশবাদী সংগঠন, গণমাধ্যম এবং সাধারণ মানুষের সমন্বিত উদ্যোগ অত্যন্ত জরুরি। পাশাপাশি পরিবেশ সংরক্ষণ আইন ও বিধিমালার কার্যকর বাস্তবায়ন এবং পরিবেশ দূষণের সঙ্গে জড়িত ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে দ্রুত ও কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণের ওপরও গুরুত্বারোপ করা হয়েছে। বিশ্ব পরিবেশ দিবসে প্রকৃতি ও পরিবেশ রক্ষার অঙ্গীকারই হতে পারে একটি নিরাপদ, বাসযোগ্য ও টেকসই ভবিষ্যৎ নির্মাণের প্রথম পদক্ষেপ।

নিউজটি আপডেট করেছেন : [email protected]

কমেন্ট বক্স

এ জাতীয় আরো খবর

সর্বশেষ সংবাদ